1. info@dailyjanatarbarta.com : Admin :
  2. admin2@dailyjanatarbarta.com : Editor Janatar Barta : Editor Janatar Barta
  3. araf@yopmail.com : araf :
  4. editor@dailyjanatarbarta.com : JanatarBarta Editor : JanatarBarta Editor
  5. test@yopmail.com : test :
সংবাদ শিরোনাম :

অগ্নিকাণ্ড : লাশ পেতে ৩ সপ্তাহের অপেক্ষা থামছে না কান্নার আওয়াজ

  • পোস্টের সময়কাল : রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১
  • ১২২ মোট ভিউস্

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এখনো থামছে না অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের স্বজনের কান্নার আওয়াজ। বৃহস্পতিবার রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকার সজীব গ্রুপের হাসেম ফুড লিমিটেডের ছয়তলা ভবনের আগুনে প্রাণ গেছে ৫২ জনের। এরমধ্যে চারজনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বাকি ৪৮ জনের লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। কারণ আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া এসব লাশ চেনার উপায় নেই। ডিএনএ টেস্টের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করতে অন্তত ৩ সপ্তাহ লাগবে।

এরপরও প্রিয়জনের লাশের সন্ধানে স্বজনরা ছুটছেন কারখানা থেকে হাসপাতাল, হাসপাতাল থেকে মর্গে, মর্গ থেকে ডিএনএ বিশেষজ্ঞদের কাছে। শনিবারও ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল মর্গের সামনে এবং নিহতদের গ্রামের বাড়িতে ছিল শোকের মাতম। এদিকে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবুল হাসেমসহ আটজনকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। শনিবার বিকালে তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন আদালত।

এর আগে দুপুরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর সবাইকে আদালতে হাজির করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে দায়ী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকেই উপযুক্ত বিচারের মুখোমুখি করা হবে। অন্যদিকে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে ফায়ার সার্ভিস। হাসেম ছাড়াও অন্য যাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন হাসেমের চার ছেলে-হাসিব বিন হাসেম, তারেক ইব্রাহীম, তাওসীব ইব্রাহীম ও তানজীম ইব্রাহীম। অন্য তিনজন হলেন-হাসেম ফুড লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহান শাহ আজাদ, ডিজিএম মামুনুর রশিদ ও অ্যাডমিন প্রধান সালাউদ্দিন। তাদের সবাইকে শনিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খানমের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহবুবর রহমান জানিয়েছেন, এটা হত্যা নয়; গণহত্যা। গণহত্যার প্রকৃত রহস্য বের করতে হলে আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেছেন, এটা কোনো হত্যাকাণ্ড নয়। এটা একটি নিছক দুর্ঘটনা। এ মামলায় আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। আসামিদের জামিন দেওয়া হোক। রিমান্ড এবং জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত তাদের প্রত্যেকের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হত্যা মামলার পর আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। মামলার বাদী হয়েছেন রূপগঞ্জ থানাধীন ভুলতা ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক নাজির উদ্দিন মজুমদার। মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জন আসামি আছেন। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই কারখানায় বিদ্যুতের কাজের দায়িত্বে ছিলেন সজীব গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সজীব হোমস লিমিটেডের ডিজিএম ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল ইসলাম। অগ্নিদুর্ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। শনিবার ভবনের ভেতর গিয়ে দেখা যায়, মেশিনারিজসহ প্রত্যেক ফ্লোরের সব মালামাল পুড়ে ভস্ম হয়ে গেছে। চরম অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের নানা নজিরও চোখে পড়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছে, ভবনটি তৈরিতে মানা হয়নি বিল্ডিং কোড। প্রতি তলাতেই ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি মালামাল রাখা হতো। এতে শ্রমিকদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত ছিল সব সময়। জরুরি নির্গমনের পথও ছিল মালামালে ঠাসা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভবনের চতুর্থ তলার একটি এসি রুমে তালাবদ্ধ অবস্থায় আটকে পড়ে মারা যান ৪৯ জন শ্রমিক। বাঁচার জন্য শ্রমিকরা সেখান থেকে টেলিফোনে আর্তি জানিয়েছেন স্বজন ও কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু এতে কোনো কর্ণপাত করেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ। দায়িত্বশীলরা তখন বলেছিলেন, এটা ছোট আগুন। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিভে যাবে। কারও নিচে নামার দরকার নেই। পরে ওই রুমটি তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এ কারণে প্রাণপণ চেষ্টা করেও সেখান থেকে বের হতে পারেননি কেউ। যে সুপারভাইজার শ্রমিকদের সেখানে আটকে রেখেছিলেন তিনিও মারা গেছেন বলে জানা গেছে। শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান অগ্নিকাণ্ডকে ‘মানুষ হত্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, মর্মান্তিক এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দোষীদের বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত ৩টি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও মামলার তদন্তে যা বেরিয়ে আসবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারও ন্যূনতম দোষ বা গাফিলতি পাওয়া গেলে কঠিন বিচারের মুখোমুখি করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একসঙ্গে এতজন লোকের প্রাণহানিতে সারা দেশে শোক বিরাজ করছে। হাসেম ফুড ফ্যাক্টরির কতজন লোক এখানে কাজ করছিলেন সেটা তদন্তে বের হয়ে আসবে। তদন্তের পরই আমরা বলতে পারব, এখানে কেন এ ঘটনা ঘটেছে। যা হয়েছে তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও দুঃখজনক। যারা ইন্তেকাল করেছে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। যে কজন হাসপাতালে জীবিত আছেন, আমরা মনে করি তারা সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন। আত্মীয়-স্বজনকে যেন আল্লাহ শোক সহ্য করার সামর্থ্য দেন এ কামনা করি। সরকারিভাবে ডিসি তাৎক্ষণিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। তাদের দুঃখ লাঘবের জন্য যা যা করা দরকার তা করা হবে। কারখানায় অনেক শিশু শ্রমিক কাজ করত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এখানে শিশু শ্রমিকও থাকতে পারে, বিল্ডিং তৈরির ত্রুটি থাকতে পারে। আমরা তদন্তের আগে কিছু বলতে পারব না।

শেয়ার করুন....

আরো দেখুন