চরফ্যাশনের শশীভূষণ থানার রসুলপুর ইউনিয়নের পালিয়ে বিয়ের প্রলোভনে নিজ বসত ঘরে ডেকে নিয়ে ৯ম শ্রেণীতে পড়–য়া মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার ভিক্টিম ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে আলামিন নামের এক যুবককে আসামী করে শশীভূষণ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ ধর্ষক আলামিনকে গ্রেপ্তার করে দুপুরে আদালতে সোপর্দ করেছেন। অভিযুক্ত আলামিন রসুলপুর ২নং ওয়ার্ডের প্রবাসী আমিন মহাজনের ছেলে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় অভিযুক্ত যুবকের বসত ঘরে ডেকে নিয়ে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
ভিক্টিম ও এজাহার সুত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আলামিন ও ভিক্টিম ছাত্রী একই গ্রামে বসবাস করেন। প্রতিবেশী হওয়ায় ওই যুবক আলামিন তার বাড়িতে আসা যাওয়া করতো। আসা যাওয়ার সুযোগে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন যুবক আলামিন। বাড়িতে আসার সুযোগে দু’বছর যাবত তাদের মধ্যে প্রেম সম্পর্ক গড়ে উঠে। বুধবার সন্ধ্যায় প্রেমিক আলামিন পালিয়ে বিয়ে করবেন এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভিক্টিম ছাত্রীকে তার বাড়ি থেকে ভিক্টিম ছাত্রীকে ডেকে নেয়। আলামিনের মা ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে লুকিয়ে রাতের আধাঁরে তার বাড়ির বসত ঘরে নিয়ে যান ছাত্রীকে। বিয়ের মিথ্যা আশ্বাসে জোরপূর্বক তাকে একাধিক বার ধর্ষণ করেন। ধর্ষণ শেষে রাত গভীর হলে ধর্ষক আলামিন ভিক্টিম ছাত্রীকে তার বাড়িতে চলে যেতে বলেন। নিরুপায় হয়ে ভিক্টিম ছাত্রী বিষয়টি আলামিনের মাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে জানান। আলামিন ও তার মা রাতভর তাকে ওই ঘরে আটকে রেখে সকাল হলেই ভিক্টিম ছাত্রীকে ঘর থেকে বের করে দেন। বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম পন্ডিতের শরনাপন্ন হলে চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি সমোঝতার চেষ্টা করেন। দিনভর সমোঝতার চেষ্টায় ব্যার্থ হয়ে সন্ধ্যায় ভিক্টিমও ধর্ষক আলামিনকে থানায় সোপর্দ করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম পন্ডিত জানান, সমোঝতার বিষয়টি সঠিক নয়। ভিক্টিম পরিবার বিষয়টি নিয়ে আমার শরনাপন্ন হলে তাদেরকে থানায় যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পরে কি হয়েছে তা আমার জানা নাই।
শশীভূষণ থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। যুবক আলামিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ভিক্টিম ছাত্রীকে মেডিকেল পরিক্ষার জন্য ভোলা পাঠানো হয়েছে।