1. info@dailyjanatarbarta.com : Admin :
  2. admin2@dailyjanatarbarta.com : Editor Janatar Barta : Editor Janatar Barta
  3. araf@yopmail.com : araf :
  4. editor@dailyjanatarbarta.com : JanatarBarta Editor : JanatarBarta Editor
  5. test@yopmail.com : test :
সংবাদ শিরোনাম :
ভোলার মেঘনায় মালবাহী কার্গোতে ডাকাতি! দূই জলদস্যুকে ধরে ফেললো কোস্ট গার্ড প্রকাশিত কাল্পনিক সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানালেন বিজেপি নেতা জামালউদ্দিন চকেট সিপিডিএ ‘র দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে ক্যারিয়ার উন্নয়ন সপ্তাহ ১৫-২১ অক্টোবর সারাদেশে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু ৬ মাস ২১ দিন পর দলীয় কার্যালয়ে রিজভী কোনো নির্বাচন নির্বাচন খেলা হবে না: ওবায়দুল কাদের সারাদেশে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে মাঠ প্রশাসন মূল চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী ভোলার মেঘনায় ৮ টি মালবাহী কার্গো জাহাজে ডাকাতির অভিযোগ! পুলিশের রহস্যময় ভূমিকা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

আফগানিস্তান থেকে পলায়ন : মিত্রদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে যুক্তরাষ্ট্র

  • পোস্টের সময়কাল : সোমবার, ৩০ আগস্ট, ২০২১
  • ৬৩ মোট ভিউস্

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সটকে পড়া এবং এই সুযোগে তালেবানের ক্ষমতায় ফেরা নিয়ে নানামুখী ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ চলছে বিশ্বজুড়ে। কেউ বলছেন, অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্হিবিশ্বে বিশাল সামরিক ব্যয় বহনের ক্ষমতা এখন মার্কিন অর্থনীতির নেই। সাধারণ মার্কিন নাগরিকরাও এভাবে অর্থ খরচ পছন্দ করছেন না।

মার্কিন নীতিনির্ধারকদের অনেকে অলাভজনক প্রজেক্ট আফগানিস্তান থেকে সেনা সরারোর জন্য মত দিয়ে আসছিলেন। আবার কেউ বলছেন, যে যুক্তিতেই হোক যুক্তরাষ্ট্রের এভাবে সরে যাওয়া ঠিক হয়নি। এক্ষেত্রে অনেকটাই তাড়াহুড়া করা হয়েছে। এর প্রয়োজন ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে মিত্ররা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এভাবে সটকে পড়ার ঘটনা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত আফগান নাগরিকদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতারও শামিল। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ আফগানদের বিশাল একটি অংশ চরম বিপদে পড়েছে। অনেকেই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলে দলে দেশ ছাড়া এবং কাবুল বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট।

সমালোচকদের মতে, এ ভূমিকায় যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা এবং নৈতিক অবস্থান বিরাট প্রশ্নের মুখে পড়েছে। মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে আফগানিস্তান মিশন নিশ্চয়ই ভিয়েতনাম মিশনের মতো অজনপ্রিয় ছিল না। টুইন টাওয়ারে আল-কায়দার হামলার কারণে বরং আফগানিস্তান মিশনের পক্ষেই ছিল দেশটির অধিকাংশ জনগণ।

ভিয়েতনাম মিশনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবল গণবিক্ষোভ হয়েছিল; কিন্তু আফগানিস্তান মিশনের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো বিক্ষোভই হয়নি। অথচ আফগান মিশন সফল না করেই যুক্তরাষ্ট্র সরে পড়ল। অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমে যাওয়া কিংবা দেশের অভ্যন্তরীণ চাপ- যাই হোক না কেন এভাবে সরে যাওয়া ঠিক হয়নি। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা দারুণভাবে আহত হয়েছে। ন্যাটো সদস্যভুক্ত অনেক দেশই আফগানিস্তানে সেনা পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কথায়।

আফগান যুদ্ধে ওই দেশগুলোর অনেক সেনা মারা গেছে। তাদের অর্থ ও সময় খরচ হয়েছে। ওই দেশগুলোকে ওয়াশিংটন আসলে পথে বসিয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারত। ওয়াশিংটনের পরামর্শেই ভারত আফগানিস্তানের ভৌত অবকাঠামো, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তালেবান ক্ষমাতায় আসায় সেই বিনিয়োগ চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

এ কারণে ভারতে ভীষণভাবে সমালোচিত হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। অনেকে বলছেন ভারতকে গাছে তুলে দিয়ে আসলে যুক্তরাষ্ট্র মই তুলে নিয়েছে। ব্রিটেনের যারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের দেশের ‘বিশেষ সম্পর্ক’ নিয়ে বড়াই করেন, তারাও কিন্তু এখন প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সমালোচনা করছেন।

এবারের ঘটনায় মিত্রদের কাছে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যা কিছু করে নিজের ইচ্ছায়। যখন কোনো নির্দিষ্ট দিকে যাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করে ফেলে, তখন মিত্রদের মতামতের তোয়াক্কা করে না দেশটি। তার মানে আফগানিস্তান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র যা করল তার ফল নিশ্চয়ই ভালো হবে না। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের কাজে আর কারও উৎসাহ থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের কথায় বিশ্বাস করে কেউ আর ঝুঁকি নেবে না।

এখনকার যে সংকট, সেটা কেটে গেলেও; ভবিষ্যতে ন্যাটোর সদস্যদেশগুলো, কিংবা ইসরাইল, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া বা জাপানের মতো দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চই আগের মতো নির্ভরযোগ্য মনে করবে না।

অর্থাৎ আস্থার সংকটে পড়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র। এটা কিন্তু একটি দেশের জন্য বড় ক্ষতি। এই আস্থাহীনতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে হয়েতো বড় ধরনের বিপদে পড়বে।

কেউ কেউ বলছেন, বাইডেন চীনকে ঠেকানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে আফগানিস্তান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই যদি হয়ে থাকে, তাতে বরং উল্টো ফল হতে পারে। এটি বরং চীনকে আফগানিস্তানে এবং অন্যান্য দেশে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ খুলে দিল। চীন এখন নির্বাধায় আফগানিস্তানের ওপর দিয়ে ইরান তথা ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত সড়ক ও রেল রুট নির্মাণ করতে পারবে।

এতে ইরান থেকে নিজ দেশে জ্বালানি আনার পথ সহজ হবে। তবে এক্ষেত্রে চীনেরও ঝুঁকি রয়েছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে চীনের ছোট্ট সীমান্ত আছে। সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে চীন সমস্যায় রয়েছে। বেইজিংবিরোধী ইসলামী সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলো এখন আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।

কারণ তালেবানের বাইরেও আফগানিস্তানে অনেক জঙ্গি সংগঠন ক্রিয়াশীল রয়েছে; যারা খুবই উগ্র। এই গ্রুপগুলো যুক্তরাষ্ট্র কিংবা কমিউনিস্ট চীনের সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে নয়। এমনই একটি গ্রুপ হলো ইসলামিক স্টেট অব খোরাসান (আইএস-কে)। এই গ্রুপটিই কয়েক দিন আগে কাবুল বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। সুযোগ পেলেই এরা উইঘুর মুসলমানদের বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডে সহায়তা করবে।

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রর পলায়ন দেখে রাশিয়াও হয়তা এখন উচ্ছ্বাস বোধ করছে। কারণ আফগানিস্তান থেকে তাকেও চেয়ে লজ্জা নিয়ে বিদায় নিতে হয়েছিল। তবে মস্কোর এই উচ্ছ্বাস কতদিন থাকবে সেটাই বড় প্রশ্ন। কারণ আফগানিস্তানে ক্রিয়াশীল জঙ্গিদের টার্গেট মস্কোও। আপাতত তালেবানের সঙ্গে সমঝোতা হলেও এদের ছত্রছায় থাকা জঙ্গিগ্রুপগুলো কিন্তু মস্কোকে ছাড়বে না। এছাড়া তালেবানবিরোধী জঙ্গিগ্রুপ তো আছেই। এরা নিশ্চয়ই মুসলমানদের আবার উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করবে।

আফগানিস্তানে তালেবান ফেরায় বোধ হয় সবচেয়ে বেশি খুশি পাকিস্তান। কারণ আফগানিস্তানে ভারতের উপস্থিতি একেবারেই মেনে নিতে পারছিল না দেশটি। ইসলামাবাদের ধারণা এখন তারা আফগানিস্তানে মনের মতো সরকার বসাতে পারবে এবং দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

কিন্তু আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী কট্টর জঙ্গিগ্রুপগুলোর তৎপরতা এবং উপজাতি নেতৃত্বের মধ্যে বিরোধের কারণে পাকিস্তানের এ পরিকল্পনা হয়তো ভেস্তেও যেতে পারে। ইতোমধ্যে তালেবানবিরোধী জঙ্গিগ্রুপ আইএস-কে কাবুল বিমানবন্দরে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে কয়েকশ মানুষকে হতাহত করেছে। এই গ্রুপটি আরও হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এরই মধ্যে পাঞ্জশিরে আহমেদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমেদ মাসুদের নেতৃত্বে তাজিকরা তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। আরেক তাজিক নেতা আমারুল্লাহ সালেহও (ক্ষমতাচ্যুত সরকারের ভাইস-প্রেসিডেন্ট) প্রতিরোধে শামিল হয়েছেন। তাজিকিস্তান এই গ্রুপটিকে সহযোগিতা করছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ আফগানিস্তানে মনের মতো সরকার বসিয়ে স্বার্থ হাসিলে পাকিস্তানের পরিকল্পনাও বোধ হয় বড় ঝুঁকিতে পড়ে গেছে।

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের চলে যাওয়ায় বেইজিং, মস্কো এবং ইসলামাবাদের মুখে যে হাসি এখন দেখা যাচ্ছে, সেটা হয়তো দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। আফগানিস্তান আবার যদি সেই আগের দিনগুলোতে ফিরে যায় আর্থাৎ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের নিরাপদ চারণভূমি হয়ে ওঠে- তাহলে কিন্তু রাশিয়া, চীন, পাকিস্তানও বিপদে পড়বে। অস্থিরতার নেতিবাচক পরিণাম তাদেরও ভোগাবে।

শেয়ার করুন....

আরো দেখুন