1. info@dailyjanatarbarta.com : Admin :
  2. admin2@dailyjanatarbarta.com : Editor Janatar Barta : Editor Janatar Barta
  3. araf@yopmail.com : araf :
  4. editor@dailyjanatarbarta.com : JanatarBarta Editor : JanatarBarta Editor
  5. test@yopmail.com : test :
সংবাদ শিরোনাম :
ভোলার মেঘনায় মালবাহী কার্গোতে ডাকাতি! দূই জলদস্যুকে ধরে ফেললো কোস্ট গার্ড প্রকাশিত কাল্পনিক সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানালেন বিজেপি নেতা জামালউদ্দিন চকেট সিপিডিএ ‘র দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে ক্যারিয়ার উন্নয়ন সপ্তাহ ১৫-২১ অক্টোবর সারাদেশে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু ৬ মাস ২১ দিন পর দলীয় কার্যালয়ে রিজভী কোনো নির্বাচন নির্বাচন খেলা হবে না: ওবায়দুল কাদের সারাদেশে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে মাঠ প্রশাসন মূল চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী ভোলার মেঘনায় ৮ টি মালবাহী কার্গো জাহাজে ডাকাতির অভিযোগ! পুলিশের রহস্যময় ভূমিকা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

তালেবান সরকারের সামনে ৬টি বড় চ্যালেঞ্জ

  • পোস্টের সময়কাল : শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৫২ মোট ভিউস্

নাটকীয়ভাবে কাবুল দখলের মাধ্যমে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় বসার ২১ দিন পর তালেবান তাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছে। নতুন সরকারে আছেন তালেবানের বিখ্যাত সব নেতারা।

এই সরকার গঠনের আগে বহির্বিশ্ব থেকে আফগানিস্তানে একটা ইনক্লুসিভ সরকার অর্থাৎ সব জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটা সার্বজনীন সরকার গঠনের জন্য চাপ দেয়া হয়েছিল তালেবানকে। তালেবানও সেরকম একটা সরকার গঠন করবে বলে জানিয়েছিল। একইভাবে সরকারে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও ছিল তখন আলোচনায়। কিন্তু যে সরকার তারা গঠন করেছে তাতে তালেবানের বাইরে থেকে একজনও নেই।

মন্ত্রিপরিষদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট ৩৩ জনের যে তালিকা প্রকাশ হয়েছে তাতে শুধুমাত্র একজন উজবেক এবং তিনজন তাজিক বংশোদ্ভূত তালেবান।

এখন এই সরকার নিয়ে সমালোচনা করছেন অনেকেই। কেউ বলেছেন, এই সরকারকে আর যাই বলা হয় হোক কিন্তু একে ইনক্লুসিভ সরকার বা ঐক্যমতের ভিত্তিতে সরকার বলা যায় না। কেউ আবার এটাকে মোল্লাদের সরকারও বলেছেন। কেউ আবার বলেছেন জেল খাটাদের সরকার। অনেকে আবার মন্তব্য করছেনে এই সরকারের অনেকেই বিভিন্ন দেশের সন্ত্রাসী তালিকায় আছেন।

তবে তালেবানের এই সরকারে বাইরে থেকে কাউকে কেন রাখা হয়নি মর্মে প্রশ্ন করলে তালেবানের মুখপাত্র একটা দায়সারা গোছের জবাব দেন। তার মতে এখনো সরকারের অনেক পদ খালি আছে যেগুলোতে অন্যদের নেয়া যেতে পারে। আর এটা যেহেতু একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাই এটা অস্থায়ী। এরপর যখন স্থায়ী সরকার গঠন হবে তখন তাদেরকে নেয়া হবে। কিন্তু এগুলো অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যেমন, মন্ত্রিপরিষদের ৩৩ জনের নাম ঘোষণা হয়েছে।

সব গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব বণ্টন হয়েছে। আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদটাই বা বাকি আছে? তাছাড়া এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকাল কতদিন হবে? পরিবর্তী সরকার কিভাবে নির্ধারণ হবে? তালেবান যেহেতু নির্বাচনে বিশ্বাস করে না তাই জনগণের নির্বাচিত করার কোন বিষয় এখানে আসবে না। তাহলে একটাই অপশন থাকে তাহলো তালেবানই নির্ধারণ করবে আগামী সরকার। আর তখন সে সরকারেও অন্যদের স্থান হওয়ার সম্ভবনা কম।

এখন এই সরকার গঠনে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে এর প্রভাব এবং ফলাফল কী হবে? কোন কোন দেশ এই সরকারকে সমর্থন দেবে কোন কোন দেশ স্বীকৃতি দিবে? দেশের মধ্যে শান্তি ফিরে আসার সম্ভবনা কতটুকু? এরকম অনেক প্রশ্ন এবং চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে তালেবান সরকার।

প্রথম চ্যালেঞ্জ: আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

এই সরকার গঠনে চীন, পাকিস্তান, কাতার সৌদি আরব, আরব আমিরাত এবং বাহরাইন তাদেরকে স্বীকৃতি দেবে, তবে সময় নেবে। ইরান, বাংলাদেশ রাশিয়া, মধ্য এশিয়ার দেশগুলো এই তালেবানের সরকারকে কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখবে। তুরস্ক এক্ষেত্রে, মার্কিন, ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একত্রে হাঁটবে।

তাজিকিস্তান এবং ভারত এই সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নিবে।

দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ: অর্থনীতি

তালেবানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হবে অর্থনীতি। যদিও তারা চীনের মাধ্যমে তাদের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করবে। কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে চীন কিন্তু আমেরিকার মত কাঁচা টাকা ঢালে না।

এছাড়াও আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাংক এবং আমেরিকা আফগানিস্তানের যে অর্থ আটকে দিয়েছে তা ছাড়াতে না পারলে অর্থনৈতিকভাবে সমস্যায় পড়তে হতে পারে দেশটির।

তৃতীয় চ্যালেঞ্জ: খাদ্য নিরাপত্তা

গত দুই দশক ধরে আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেকের মত মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে, তারা পুরোপুরি ত্রাণ সহয়তার ওপর নির্ভরশীল।

জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, আফগানিস্তানের অর্ধেক মানুষ খুব শীঘ্রই খাদ্য সংকটে পড়বে। রাতারাতি সেখানে ফসল উৎপাদান সম্ভব না।যদিও এখন পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, আরব আমিরাত এবং বাহরাইন ত্রাণ পাঠাচ্ছে কিন্তু  আফগানিস্তানে যে পরিমাণ খাদ্য দরকার তা এদের পক্ষে সাপ্লাই দেয়া সম্ভব না। তাই আফগানিস্তানকে জাতিসঙ্ঘের খাদ্য সংস্থার উপর নির্ভর করতে হবে আরও কয়েক বছর।

চতুর্থ চ্যালেঞ্জ: আইন-শৃঙ্খলা

দেশটিতে পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত ভবিষ্যৎ অগ্রগতি। নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা হলে বাইরের দেশগুলোর হস্তক্ষেপের সুযোগ কম থাকে। আর দেশী-বিদেশী বিনিয়োগও নির্ভর করে নিরাপত্তার উপর। তবে এক্ষেত্রে বড় সমস্যা সৃষ্টি করবে আইএসএস। এছাড়াও আছে বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র ডাকাত দল। তাদেরকেও দমন করতে হবে। অন্যদিকে পাঞ্জশিরে আহমদ মাসুদের বাহিনী এখনও পুরোপুরি পরাজিত হয়নি। তারা শহর ছেড়ে পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপন করেছে। আবার সংগঠিত হয়ে ফিরে আসার আশংকা রয়েছে। এই সব সমস্যাকে শক্ত হাতে, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে তালেবানের। খালি রাস্তাঘাটে চাবুক মেরে, বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে, রাস্তাঘাটে মানুষ পিটিয়ে এগুলো করলে হবে না।

পঞ্চম চ্যালেঞ্জ: কাবুল এবং কাবুল বিমানবন্দর

কাবুলে পাঠানদের চেয়েও তাজিকরা অনেক শক্তিশালী। তাই কাবুলের নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে তালেবানের জন্য। এর পরে আসবে কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা। বিমানবন্দর নিরাপদ না হলে বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ থাকবে। এখন কাতার, তুরস্ক, আরব আমিরাত এবং আমেরিকার কিছু টেকনিশিয়ান কাজ করছেন এই আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল চালু করার জন্য।

ষষ্ঠ চ্যালেঞ্জ: দুর্নীতি দমন

গত বিশ বছরে আমেরিকার দখলদারিত্বের সময় যে ব্যাপক দুর্নীতি আফগানিস্তানের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে তা থেকে মুক্তি পেতে হবে দেশটির। দেশর সব সরকারি-বেসরকারি সংস্থার উচ্চপর্যায় থেকে একেবারে নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত, এমনকি ব্যক্তি পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে এই দুর্নীতির বীজ। এখন এই দুর্নীতি যদি সমূলে উপড়ে ফেলতে না পারে তাহলে উপড়ে যে চ্যালেঞ্জগুলোর কথা বললাম সেগুলোর কোনটাই মোকাবেলায় সফল হতে পারবে না।

শেয়ার করুন....

আরো দেখুন